হাম থেকে সুরক্ষায় শিশুকে টিকা দিন
প্রাথমিকভাবে
হামকে নিরীহ রোগ মনে হলেও এ থেকে শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই সব শিশুকেই হামের টিকা দেওয়া উচিত। এ লক্ষ্যেই ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে শিশুদের হামের টিকা
দেওয়ার বিশেষ ক্যাম্পেইন, যা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ সময় ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে
হামের টিকা দেওয়া হবে। যারা এর আগে হামের
টিকা নিয়েছে তাদেরও আবার টিকা দিতে হবে।
হাম মূলত ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট একটি রোগ। এতে ছোট ছোট লাল গুটি, হালকা জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো ইত্যাদি হতে পারে। সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এ রোগ ভালো হয়ে যায়। কিন্তু পরে এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, ভিটামিন 'এ'-এর অভাবজনিত বিভিন্ন রোগ, অপুষ্টি এমনকি মগজের মারাত্মক সংক্রমণ এনকেফালাইটিসও হতে পারে। টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার আগে, বিশ্বে প্রতি বছর ৮ মিলিয়ন শিশু এ রোগে মারা যেত, যা যক্ষ্মা, পুষ্টিহীনতা ও এইডসের চেয়েও বেশি ছিল। এখনও পৃথিবীতে প্রতিদিন ৪০০ শিশু হামের কারণে মারা যায়। এ শিশুদের এক-তৃতীয়াংশই কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার। পৃথিবীর অন্যান্য অংশে হামের টিকার ক্ষেত্রে ভালো সাফল্য এলেও আমরা এখনও পুরোপুরি লক্ষ্যে পেঁৗছতে পারিনি। তাই এখানে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরেও বিশেষ ক্যাম্পেইন চলছে। এ ক্যাম্পেইনের প্রাক্কালে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে প্রায় ১৫০০ শিশুর মাঝে হাম ছড়িয়ে পড়ার খবর এসেছে। সুতরাং শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী এ রোগের ব্যাপারে তদারকি প্রয়োজন।
ইদানীং দেখা যাচ্ছে, টিকা দেওয়ার পর কিছুসংখ্যক অভিভাবকের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হচ্ছে। অনেকে টিকা দিতে ভয় পাচ্ছেন। আসলে ভয়ের কিছু নেই। যে কোনো টিকা দিলেই সামান্য ব্যথা, জ্বর, ফুলে যাওয়া, বমি, লাল হওয়া ইত্যাদি হতে পারে। অবশ্য এসব খুব কমই হয়, তবুও এসব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই চিকিৎসা নিতে পারবেন, অযথা আতঙ্কিত হয়ে বিভাগীয় বা জেলা শহরের হাসপাতালে ভিড় করার দরকার নেই। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংবাদ নিয়ে কারও অতি উৎসাহের কারণে যেন টিকাদান কর্মসূচির ক্ষেত্রে আমাদের বহু দিনের অর্জিত সাফল্য ম্লান হয়ে না যায়। অবশ্য তাই বলে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে অবহেলা করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে চিকিৎসককে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। টিকাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ অর্থাৎ কোল্ড চেইন মানা হচ্ছে কি-না, সঠিক নিয়মে টিকা দেওয়া হচ্ছে কি-না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবাই সচেতন হলে হাম প্রতিরোধে অবশ্যই আমরা সফল হবো।
ডা. আবু সাঈদ শিমুল
সহকারী রেজিস্ট্রার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
হাম মূলত ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট একটি রোগ। এতে ছোট ছোট লাল গুটি, হালকা জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো ইত্যাদি হতে পারে। সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এ রোগ ভালো হয়ে যায়। কিন্তু পরে এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, ভিটামিন 'এ'-এর অভাবজনিত বিভিন্ন রোগ, অপুষ্টি এমনকি মগজের মারাত্মক সংক্রমণ এনকেফালাইটিসও হতে পারে। টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার আগে, বিশ্বে প্রতি বছর ৮ মিলিয়ন শিশু এ রোগে মারা যেত, যা যক্ষ্মা, পুষ্টিহীনতা ও এইডসের চেয়েও বেশি ছিল। এখনও পৃথিবীতে প্রতিদিন ৪০০ শিশু হামের কারণে মারা যায়। এ শিশুদের এক-তৃতীয়াংশই কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার। পৃথিবীর অন্যান্য অংশে হামের টিকার ক্ষেত্রে ভালো সাফল্য এলেও আমরা এখনও পুরোপুরি লক্ষ্যে পেঁৗছতে পারিনি। তাই এখানে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরেও বিশেষ ক্যাম্পেইন চলছে। এ ক্যাম্পেইনের প্রাক্কালে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে প্রায় ১৫০০ শিশুর মাঝে হাম ছড়িয়ে পড়ার খবর এসেছে। সুতরাং শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী এ রোগের ব্যাপারে তদারকি প্রয়োজন।
ইদানীং দেখা যাচ্ছে, টিকা দেওয়ার পর কিছুসংখ্যক অভিভাবকের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হচ্ছে। অনেকে টিকা দিতে ভয় পাচ্ছেন। আসলে ভয়ের কিছু নেই। যে কোনো টিকা দিলেই সামান্য ব্যথা, জ্বর, ফুলে যাওয়া, বমি, লাল হওয়া ইত্যাদি হতে পারে। অবশ্য এসব খুব কমই হয়, তবুও এসব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই চিকিৎসা নিতে পারবেন, অযথা আতঙ্কিত হয়ে বিভাগীয় বা জেলা শহরের হাসপাতালে ভিড় করার দরকার নেই। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংবাদ নিয়ে কারও অতি উৎসাহের কারণে যেন টিকাদান কর্মসূচির ক্ষেত্রে আমাদের বহু দিনের অর্জিত সাফল্য ম্লান হয়ে না যায়। অবশ্য তাই বলে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে অবহেলা করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে চিকিৎসককে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। টিকাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ অর্থাৎ কোল্ড চেইন মানা হচ্ছে কি-না, সঠিক নিয়মে টিকা দেওয়া হচ্ছে কি-না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবাই সচেতন হলে হাম প্রতিরোধে অবশ্যই আমরা সফল হবো।
ডা. আবু সাঈদ শিমুল
সহকারী রেজিস্ট্রার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন