সঠিকভাবে চিকিৎসা নিতে পারলে শিশুর জন্মগত হৃদরোগ থেকে সেরে
ওঠা সম্ভব েইন্টারনেট
শিশুদের
হৃদরোগের কথা বললেই অনেকে চমকে ওঠেন। বড়দের মতো বা তার চেয়েও জটিল হৃদরোগ শিশুদের যে হতে পারে, তা অনেকেরই জানা নেই। শিশুদের হৃদরোগ জন্মগতভাবে হতে পারে আবার জন্মের পরও নানা ধরনের হৃদরোগ হতে পারে। জন্মগতভাবে শিশুদের যে ধরনের হৃদরোগ দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে শিশুদের হৃদযন্ত্রের গঠনের জন্মগত ত্রুটি দেখা যায়। এ জন্য শিশুর শরীর অনেক ক্ষেত্রে নীলাভ বর্ণ ধারণ করে থাকে। এ অবস্থাকে আমরা
চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায়
সায়ানোসিস বলে থাকি। সায়ানোটিক হৃদরোগ বা হার্ট ডিজিসের মধ্যে রয়েছে টফ, টিজিএ, ট্রাঙ্কাস আর্টারিওসাস, টোটাল এনামোলাস ভেনাস রিটার্ন, ট্রাইকাসপিড এট্রেসিয়া
ইত্যাদি। আর যেসব জন্মগত হৃদরোগের ক্ষেত্রে শরীর নীলাভ বর্ণ ধারণ করে না, তাদের বলা হয় নন সায়ানোটিক হার্ট ডিজিস। ভিএসডি, এএসডি, পিডিএ, সিঙ্গেল
ভেন্ট্রিকল এসব রোগের মধ্যে অন্যতম। জন্মগত হৃদরোগের ক্ষেত্রে হার্টের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠ জন্মগতভাবে হয়তোবা
ছিদ্রযুক্ত হতে পারে নতুবা
হার্টের বিভিন্ন রক্তনালি জন্মগতভাবে উল্টোপথে অবস্থান নিতে পারে। কিছু কিছু হৃদরোগে রয়েছে যেখানে দুটি ভিন্ন রক্তনালি জন্মগতভাবে সংযুক্ত থাকতে পারে।
আবার কোনো কোনো হৃদরোগে হার্টের নিলয় দু'প্রকোস্টের না হয়ে এক প্রকোস্টের হয়ে থাকে। জন্মগতভাবে শিশুর হৃদসম্পন্দনের অস্বাভাবিকতা বা হার্ট ব্লকও থাকতে পারে।
জন্মগতভাবে ছাড়াও শিশুদের বড়দের মতো হার্টব্লক, এরিদমিয়া, হার্ট ফেইল্যুর, কার্ডিও মাইয়োপ্যাথি ভাল্বের রোগ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে শিশুর হার্টের হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হারে কমে বা বেড়ে যেতে পারে। হার্টের মাংসপেশির দুর্বলতার কারণে হার্টের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে অথবা হার্টের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠের এবং রক্তনালির মুখে অবস্থিত ভাল্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হার্ট দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
শিশুদের হৃদরোগের কারণ
অধিকাংশ জন্মগত হৃদরোগের ক্ষেত্রে মায়ের অপুষ্টি, গর্ভধারণকালে বিভিন্ন ভাইরাস রোগের সংক্রমণ, জেনেটিক বা বহিরাগত রোগ, শিশুর অপরিণত বয়স ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়ে থাকে।
আবার জন্মের পর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে শিশুর রিউমেটিক হার্ট ডিজিস বা হার্টের ভাল্বের রোগ, হার্ট ফেইল্যুরজনিত কারণে এরিদমিয়া বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন হতে পারে। ভাইরাস সংক্রমণে কার্ডিও মাইয়োপ্যাথি অথবা জন্মগত হৃদরোগের কারণে পরবর্তী সময়ে শিশুর হার্টব্লকও দেখা দিতে পারে।
রোগের লক্ষণ
জন্মগত হৃদরোগের ক্ষেত্রে শিশুরা সায়ানোটিক হৃদরোগে আক্রান্ত হলে নীলাভবর্ণ ধারণের পাশাপাশি প্রায়ই শ্বাসকষ্টের শিকার হতে পারেন। টফের রোগীরা জন্মের দু'তিন মাসের পরপরই এসব উপসর্গের পাশাপাশি জ্বর, পানিশূন্যতার কারণে তারা হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়তে পারে। টফের রোগীদের এ ছাড়া মস্তিষ্কের জটিলতাজনিত কারণে খিঁচুনিও দেখা দিতে পারে। টিজিএর রোগীরা জন্মের পরপরই ভীষণ শ্বাসকষ্ট আর সায়ানোসিস নিয়ে তাদের রোগ প্রকাশ করে থাকে। তাৎক্ষণিক অপারেশন না করালে তারা জীবন মৃত্যুঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে।
যেসব জন্মগত হৃদরোগের শিকার রোগীর মাঝে সায়ানোসিস দেখা দেয় না, তারা মূলত রোগ জটিলতার কারণে হার্টফেইল্যুরে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এজন্য তাদের শ্বাসকষ্ট, হাতপায়ে পানি আসা, হৃদকম্পন বেড়ে যাওয়া_ এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিশুরা বারবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। এ জন্য তারা শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি জ্বর, কফ-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
রোগ নিরীক্ষণ, জন্মগত হৃদরোগ ইকো কালার ডপলারের মাধ্যমে ধরা পড়ে। সার্জারির জন্য অনেক ক্ষেত্রে এনজিওগ্রামের দরকার হয়। এ ছাড়া চিকিৎসার্থে এক্স-রে ইসিজি পরীক্ষা করা হয়।
চিকিৎসা : শিশুদের হৃদরোগের সঙ্গে বড়দের হৃদরোগের পার্থক্য হলো, শিশুদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের রোগ যেন জটিলতর না হয়ে পড়ে, এজন্য তাদের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। টফের রোগীদের জন্য বেটা ব্লকার জাতীয় ওষুধ হার্ট ফেইল্যুর যেন না হয় এজন্য মূত্রবর্ধক, ডিগক্সিন, এসি ইনহিবিটর ইত্যাদি সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত অধিকাংশ শিশুকেই ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসায় একটু সুস্থ অবস্থায় এনে তাদের অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডাবল বা দুটি স্তরে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। অধিকাংশ অপারেশন বেশ ব্যয়বহুল। এ জন্য আগে থেকেই রোগীর আত্মীয়স্বজনকে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে হয়। ইদানীং ডিভাইস বা অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ভিএসডি, এএসডি ও পিডিএর শল্যচিকিৎসা করা হচ্ছে। এ ধরনের পদ্ধতি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ হলেও বেশ ব্যয়বহুল। হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসার জন্য দরকার সার্জারি ও মেডিকেল বিশেষজ্ঞ, আত্মীয়স্বজন এবং নার্সের সমন্বয়ে গড়া একটি অভিনব টিম। এসব রোগে আক্রান্ত শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্যও এক ধরনের পরামর্শক থাকাও খুব দরকার।
েডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার
শিশু কার্ডিওলজিস্ট
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
আবার কোনো কোনো হৃদরোগে হার্টের নিলয় দু'প্রকোস্টের না হয়ে এক প্রকোস্টের হয়ে থাকে। জন্মগতভাবে শিশুর হৃদসম্পন্দনের অস্বাভাবিকতা বা হার্ট ব্লকও থাকতে পারে।
জন্মগতভাবে ছাড়াও শিশুদের বড়দের মতো হার্টব্লক, এরিদমিয়া, হার্ট ফেইল্যুর, কার্ডিও মাইয়োপ্যাথি ভাল্বের রোগ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে শিশুর হার্টের হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হারে কমে বা বেড়ে যেতে পারে। হার্টের মাংসপেশির দুর্বলতার কারণে হার্টের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে অথবা হার্টের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠের এবং রক্তনালির মুখে অবস্থিত ভাল্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হার্ট দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
শিশুদের হৃদরোগের কারণ
অধিকাংশ জন্মগত হৃদরোগের ক্ষেত্রে মায়ের অপুষ্টি, গর্ভধারণকালে বিভিন্ন ভাইরাস রোগের সংক্রমণ, জেনেটিক বা বহিরাগত রোগ, শিশুর অপরিণত বয়স ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়ে থাকে।
আবার জন্মের পর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে শিশুর রিউমেটিক হার্ট ডিজিস বা হার্টের ভাল্বের রোগ, হার্ট ফেইল্যুরজনিত কারণে এরিদমিয়া বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন হতে পারে। ভাইরাস সংক্রমণে কার্ডিও মাইয়োপ্যাথি অথবা জন্মগত হৃদরোগের কারণে পরবর্তী সময়ে শিশুর হার্টব্লকও দেখা দিতে পারে।
রোগের লক্ষণ
জন্মগত হৃদরোগের ক্ষেত্রে শিশুরা সায়ানোটিক হৃদরোগে আক্রান্ত হলে নীলাভবর্ণ ধারণের পাশাপাশি প্রায়ই শ্বাসকষ্টের শিকার হতে পারেন। টফের রোগীরা জন্মের দু'তিন মাসের পরপরই এসব উপসর্গের পাশাপাশি জ্বর, পানিশূন্যতার কারণে তারা হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়তে পারে। টফের রোগীদের এ ছাড়া মস্তিষ্কের জটিলতাজনিত কারণে খিঁচুনিও দেখা দিতে পারে। টিজিএর রোগীরা জন্মের পরপরই ভীষণ শ্বাসকষ্ট আর সায়ানোসিস নিয়ে তাদের রোগ প্রকাশ করে থাকে। তাৎক্ষণিক অপারেশন না করালে তারা জীবন মৃত্যুঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে।
যেসব জন্মগত হৃদরোগের শিকার রোগীর মাঝে সায়ানোসিস দেখা দেয় না, তারা মূলত রোগ জটিলতার কারণে হার্টফেইল্যুরে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এজন্য তাদের শ্বাসকষ্ট, হাতপায়ে পানি আসা, হৃদকম্পন বেড়ে যাওয়া_ এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিশুরা বারবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। এ জন্য তারা শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি জ্বর, কফ-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
রোগ নিরীক্ষণ, জন্মগত হৃদরোগ ইকো কালার ডপলারের মাধ্যমে ধরা পড়ে। সার্জারির জন্য অনেক ক্ষেত্রে এনজিওগ্রামের দরকার হয়। এ ছাড়া চিকিৎসার্থে এক্স-রে ইসিজি পরীক্ষা করা হয়।
চিকিৎসা : শিশুদের হৃদরোগের সঙ্গে বড়দের হৃদরোগের পার্থক্য হলো, শিশুদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের রোগ যেন জটিলতর না হয়ে পড়ে, এজন্য তাদের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। টফের রোগীদের জন্য বেটা ব্লকার জাতীয় ওষুধ হার্ট ফেইল্যুর যেন না হয় এজন্য মূত্রবর্ধক, ডিগক্সিন, এসি ইনহিবিটর ইত্যাদি সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত অধিকাংশ শিশুকেই ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসায় একটু সুস্থ অবস্থায় এনে তাদের অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডাবল বা দুটি স্তরে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। অধিকাংশ অপারেশন বেশ ব্যয়বহুল। এ জন্য আগে থেকেই রোগীর আত্মীয়স্বজনকে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে হয়। ইদানীং ডিভাইস বা অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ভিএসডি, এএসডি ও পিডিএর শল্যচিকিৎসা করা হচ্ছে। এ ধরনের পদ্ধতি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ হলেও বেশ ব্যয়বহুল। হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসার জন্য দরকার সার্জারি ও মেডিকেল বিশেষজ্ঞ, আত্মীয়স্বজন এবং নার্সের সমন্বয়ে গড়া একটি অভিনব টিম। এসব রোগে আক্রান্ত শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্যও এক ধরনের পরামর্শক থাকাও খুব দরকার।
েডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার
শিশু কার্ডিওলজিস্ট
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন