মানুষের
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যান্সারের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সময় পাকস্থলীর ক্যান্সারের রোগী
আমাদের দেশে বেশ কম হলেও
এখন তা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। ভেজাল খাবার, খাবারে
বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত
দ্রব্য মেশানোর কারণে এ ধরনের ক্যান্সার বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে গবেষকরা ধারণা করছেন। চীন, জাপান এবং দক্ষিণ
এশিয়ায় এ রোগ ইদানীং আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ রোগে মহিলাদের চেয়ে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হন। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ রোগে আক্রান্ত
হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে। সমাজের উচ্চবিত্তদের মাঝেও এ ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।
রোগের কারণ : হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া মানুষের পাকস্থলী ও ডিওডেনামে আলসারের সৃষ্টি করে। জীবাণুটি পাকস্থলীতে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষণস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি করে। ক্ষণস্থায়ী প্রদাহ থেকে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থেকে অবশেষে পাকস্থলীতে ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, কেবল হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি দ্বারা আলসারটিই ক্যান্সারে পরিণত হয়। ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্য বিশেষভাবে দায়ী হলেও পাকস্থলীতেও ক্যান্সার সৃষ্টিতে এর ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া অধিক লবণ ও ধোঁয়াযুক্ত, লবণে সংরক্ষিত, নাইট্রাইট ও নাইট্রেটসমৃদ্ধ খাবারকে উলেল্গখযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের রক্তের গ্রুপ এ, তারা অন্যান্য রক্তের গ্রুপধারীদের চেয়ে অধিক হারে পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বংশগত কারণকেও আজকাল উলেল্গখযোগ্য কারণ হিসেবে উলেল্গখ করা হয়।
উপসর্গ : পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে শরীরের ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, রক্তবমি, কালো আলকাতরার মতো পায়খানা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর উপরের পেটে চাকা থাকে। অনেকে জন্ডিসে আক্রান্ত হতে পারেন। পাকস্থলীর ক্যান্সারের রোগী জন্ডিস দ্বারা আক্রান্ত হলে বুঝতে হবে ক্যান্সারটি লিভারে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের পেটে পানি আসতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যান্সারটি কাঁধের লাসিকা গ্রন্থিতে ছড়াতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি হাড়, পেরিটোনিয়ামও এ ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ করে ফেলতে পারে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা : এন্ডোস্কপি করে পাকস্থলীর প্রাচীর থেকে কোষ এনে সেটিকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে পাকস্থলীর ক্যান্সার নির্ণয় করা যায়। বেরিয়াম মিল এক্স-রে করে পাকস্থলীর ক্যান্সার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অনেক সময় পাকস্থলীর ক্যান্সার শরীরে কতটুকু ছড়িয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য সিটিস্ক্যান করা হয়।
চিকিৎসা : প্রাথমিক পর্যায়ে যে কোনো ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। তখন রোগীর চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ ক্যান্সার ধরা পড়লে অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব। এ অবস্থায় রোগীর রোগমুক্তির হার অনেক বেশি। কিন্তু বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সারের চিকিৎসা অনেক সময় অপারেশনের মাধ্যমে করা সম্ভব হয় না। ফলে রোগীর বেঁচে থাকার হার কমে যায়। সেইসঙ্গে চিকিৎসা খরচও বেড়ে যায়। অনেক সময় রোগীকে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে। তাই এ ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তি দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, অধিক পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল এবং অল্প পরিমাণে লবণযুক্ত খাবার খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়। ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবারও পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। ভেজাল ও প্রিজারভড খাবার, কৃত্রিম রং ব্যবহারকৃত খাবার খাওয়া যাবে না।
েডা. মাহবুর রহমান
শিশু সার্জন
ঢাকা শিশু হাসপাতাল।
রোগের কারণ : হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া মানুষের পাকস্থলী ও ডিওডেনামে আলসারের সৃষ্টি করে। জীবাণুটি পাকস্থলীতে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষণস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি করে। ক্ষণস্থায়ী প্রদাহ থেকে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থেকে অবশেষে পাকস্থলীতে ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, কেবল হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি দ্বারা আলসারটিই ক্যান্সারে পরিণত হয়। ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্য বিশেষভাবে দায়ী হলেও পাকস্থলীতেও ক্যান্সার সৃষ্টিতে এর ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া অধিক লবণ ও ধোঁয়াযুক্ত, লবণে সংরক্ষিত, নাইট্রাইট ও নাইট্রেটসমৃদ্ধ খাবারকে উলেল্গখযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের রক্তের গ্রুপ এ, তারা অন্যান্য রক্তের গ্রুপধারীদের চেয়ে অধিক হারে পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বংশগত কারণকেও আজকাল উলেল্গখযোগ্য কারণ হিসেবে উলেল্গখ করা হয়।
উপসর্গ : পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে শরীরের ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, রক্তবমি, কালো আলকাতরার মতো পায়খানা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর উপরের পেটে চাকা থাকে। অনেকে জন্ডিসে আক্রান্ত হতে পারেন। পাকস্থলীর ক্যান্সারের রোগী জন্ডিস দ্বারা আক্রান্ত হলে বুঝতে হবে ক্যান্সারটি লিভারে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের পেটে পানি আসতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যান্সারটি কাঁধের লাসিকা গ্রন্থিতে ছড়াতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি হাড়, পেরিটোনিয়ামও এ ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ করে ফেলতে পারে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা : এন্ডোস্কপি করে পাকস্থলীর প্রাচীর থেকে কোষ এনে সেটিকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে পাকস্থলীর ক্যান্সার নির্ণয় করা যায়। বেরিয়াম মিল এক্স-রে করে পাকস্থলীর ক্যান্সার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অনেক সময় পাকস্থলীর ক্যান্সার শরীরে কতটুকু ছড়িয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য সিটিস্ক্যান করা হয়।
চিকিৎসা : প্রাথমিক পর্যায়ে যে কোনো ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। তখন রোগীর চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ ক্যান্সার ধরা পড়লে অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব। এ অবস্থায় রোগীর রোগমুক্তির হার অনেক বেশি। কিন্তু বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সারের চিকিৎসা অনেক সময় অপারেশনের মাধ্যমে করা সম্ভব হয় না। ফলে রোগীর বেঁচে থাকার হার কমে যায়। সেইসঙ্গে চিকিৎসা খরচও বেড়ে যায়। অনেক সময় রোগীকে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে। তাই এ ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তি দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, অধিক পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল এবং অল্প পরিমাণে লবণযুক্ত খাবার খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়। ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবারও পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। ভেজাল ও প্রিজারভড খাবার, কৃত্রিম রং ব্যবহারকৃত খাবার খাওয়া যাবে না।
েডা. মাহবুর রহমান
শিশু সার্জন
ঢাকা শিশু হাসপাতাল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন